https://lifestylecampus24.com/

শুভেছা ও ভালোবাসায় আমাদের প্রিয় শাবানা

প্রায় কয়েক দশক ধরেই এক সময়ের পর্দা কাঁপানো চিত্রনায়িকা শাবানা সিনেমাতে নেই। তারপরও যেন তার আবেদন এতটুকুও কমেনি। ভক্তরা তাকে আজও ভালোবেসে স্মরণ করেন শ্রদ্ধায়। আজ এ কিংবদন্তি অভিনেত্রীর জন্মদিন। জন্মদিনের প্রথম প্রহর থেকেই শুভেছায় ভাসছেন তিনি। দেখতে দেখতে জীবনের ৬৯তম বসন্তে পা রাখলেন।

ঢাকাই সিনেমার সোনালি ইতিহাসের সাক্ষী শাবানা। তিন দশকের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন অসংখ্য চলচ্চিত্রে। তবে সেই ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটান ১৯৯৯ সালে। এরপর আর তাকে পর্দায় দেখা যায় নি। সন্তানদের উন্নত ভবিষ্যৎ ও উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে ওই বছরই স্বামী চিত্রপ্রযোজক ওয়াহিদ সাদিককে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। শাবানার বড় মেয়ে ফারহানা সাদিক সুমি এমবিএ, সিপিএ পাস করে আগে চাকরি করতেন। পরে তার দুই বাচ্চাকে দেখাশোনার জন্য তিনি চাকরি ছাড়েন। ছোট মেয়ে সাবরিনা সাদিক বিশ্বখ্যাত ইয়েল ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে শিকাগোর হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন। একমাত্র ছেলে শাহীন সাদিক নিউজার্সির রাদগার্স ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ সম্পন্ন করে এখন সেখানকার স্বনামধন্য ব্লুমবার্ড কোম্পানিতে কর্মরত।

মাঝেমাঝেই দেশে আসেন। গেল বছরের শুরুর দিকে এসেছিলেন। এর আগে এসেছিলেন ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্বামী, সংসার, সন্তান, নাতি-নাতনিদের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, পরিবার নিয়েই সময় কাটে তার। নাতি-নাতনিতের নিয়ে খেলাধুলা করে ওদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েই সময় পার করেন। ওরাই এখন তার একমাত্র খেলার সঙ্গী। এছাড়াও ধর্ম কর্ম পালন করছেন।

১৯৫২ সালের এইদিনে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাবানা। তার প্রকৃত নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। ১৯৬২ সালে মাত্র ৯ বছর বয়সে এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। এরপর রত্না নামে সেই কিশোরী অভিনেত্রী হিসেবে ‘তালাশ’, ‘কবাবু’, ‘ভাইয়া’, ‘সাগর’, ‘পঁয়সে’, ‘আবার বনবাসে রূপবান’ ছবিতে অভিনয় করেন। সহনায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন ‘আবার বনবাসে রূপবান’ ও ‘ডাক বাবু’তে।

এহতেশাম ছিলেন শাবানার চাচা (বাবার খালাতো ভাই)। তার হাত ধরেই ১৯৬৭ সালে ‘চকোরী’তে নাদিমের বিপরীতে নায়িকা হওয়ার সুযোগ পান এই কিংবদন্তি। এই সিনেমার মাধ্যমেই সবাই তাকে শাবানা নামে চিনতে শুরু করেন। সিনেমাটি বেশ ব্যবসাসফল হলে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

তিন দশকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৯৯টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন শাবানা। এর মধ্যে ১৩০টি সিনেমায় তার বিপরীতে ছিলেন আলমগীর। এছাড়াও রাজ্জাক, জসীম, সোহেল রানা, ফারুকসহ বেশ কয়েকজন গুণী অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে জুটি বেঁধে উপহার দিয়েছে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা।

শাবানা অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হচ্ছে- ‘ভাত দে’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘সত্য মিথ্যা’, ‘রাঙা ভাবী’, ‘অবুঝ মন’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘ওরা এগারো জন’, ‘বিরোধ’, ‘আনাড়ি’, ‘সমাধান’, ‘জীবনসাথী’, ‘মাটির ঘর’, ‘লুটেরা’, ‘সখি তুমি কার’, ‘কেউ কারো নয়’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘স্বামী কেন আসামি’, ‘দুঃসাহস’, ‘পুত্রবধূ’, ‘আক্রোশ’ ও ‘চাঁপা ডাঙার বউ’ প্রভৃতি।

১৯৮০ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘সখি তুমি কার’ সিনেমার জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শাবানা। এরপর অভিনয়ে অসামান্য অবদানের জন্য মোট নয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন গুণী এই অভিনেত্রী।

এছাড়াও বাচসাস পুরস্কার, আর্ট ফোরাম পুরস্কার, নাট্যসভা পুরস্কার, কামরুল হাসান পুরস্কার, নাট্য নিকেতন পুরস্কার, ললিতকলা একাডেমি ও কথক একাডেমি’সহ আরও অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

Comments

comments

Check Also

https://lifestylecampus24.com/

কেন নির্মাতাকে সাইনিং মানি ফেরত দিলেন পূর্ণিমা

বাংলাদেশের সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পূর্ণিমা। অভিনয়ের পাশাপাশি কখনো উপস্থাপনা দিয়ে, কখনো নেচে, কখনো গেয়ে, কখনো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!