Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes
Home » সম্পর্ক » সম্পর্কের গতিপথ কোনদিকে?  
https://lifestylecampus24.com/

সম্পর্কের গতিপথ কোনদিকে?  

‘সম্পর্ক’, ছোট্ট একটি শব্দ হলেও এতে লুকিয়ে আছে হাজারো অর্থ। প্রত্যেকটি মানুষের জন্য সমাজে চলার পথে ‘সম্পর্ক’ শব্দটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। শব্দটির সঙ্গে আমরা মিলিয়ে নিতে পারি টান, মায়া, আন্তরিকতা, ভালোবাসা ইত্যাদি সম্পর্কিত শব্দ।

তবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধুনিকতার ছোঁয়ায় কোথায় যেন ‘সম্পর্ক’ নামের শব্দটি হারিয়ে যাচ্ছে। আঁকড়ে ধরে রাখার পরিবর্তে মায়ার বন্ধন ‘সম্পর্ক’ দিন-দিন ভাঙনের ভাঙ্গনের পথেই হাটছে!

তাই ‘সম্পর্ক’ কখন যে কোন দিকে মোড় নেয় বা তার রূপ-প্রকৃতি সময়ে সময়ে কী হয় তা বোঝা খুবই মুশকিল। আজ যে বিশেষ মানুষটির পাশে বসে আপনি ভাবছেন এই সম্পর্ক চিরদিনের হয়তো কালই  একে অন্যের দিকে ভারী ভারী জিনিস ছুঁড়ে মারবেন কিংবা করবেন কঠিন সমালোচনা। ব্যাপারটি এমনই যেন কেউ কাউকে ইতিপূর্বে চিনতেনই না। তাহলে কিভাবে বুঝবেন আপনার সম্পর্কের গতিপথ?

১. সাহায্য
সম্পর্ক রক্ষায় একে অপরকে সাহায্য করার মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, একজন রান্না করলেন তো অন্যজন প্লেটগুলো ধুয়ে তুলে রাখলেন। একজন কাপড়গুলো ধুয়ে দিলে আরেকজন তা শুকিয়ে ইস্ত্রি করে সঠিক জায়গায় তুলে রাখলেন। এমন নয় যে একজনের ওপরই সংসারের সমস্ত দায়িত্ব দিতে হবে কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে বা বাসায় এমন কিছু কাজ থাকে যা একজন নিজে থেকেই করবে যাতে আরেকজনের করতে না হয়। হয়ত আপনার সহধর্মিণী মশাড়ি টানাতে পছন্দ করেন না তাই আপনি নিজেই টানালেন, সকালে না হয় উনি ভাঁজ করে রাখলেন। সময়ের সাথে সাথে এটাকে আর দায়িত্ব বলে মনে হবে না, অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে।

https://lifestylecampus24.com/

২. দায়বদ্ধতা
সম্পর্কের প্রথমদিনগুলোতেই পরস্পরের কাছ থেকে দায়বদ্ধতা বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার আশা করাটা বাড়াবাড়ি। কিন্তু সেই সদিচ্ছাটা থাকা জরুরি, যাতে অন্তত এটুকু বোঝা যায় যে আপনারা জীবনের বাকি পথটা একসঙ্গে হাঁটার জন্য চেষ্টা করতে রাজি!

৩. অগ্রাধিকার
সম্পর্কে পারস্পরিক অগ্রাধিকারের বিষয়ে শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। আপনি যখন ক্যারিয়ারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছেন তখন আরেকজন হয়ত একটি ফুটফুটে বাচ্চার স্বপ্ন দেখছে। উনি হয়ত এখনো বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটিয়ে, ঘুরে বেড়িয়ে দিন কাটাচ্ছেন আর আপনি চাচ্ছেন সম্পর্কে থিতু হতে। কিন্তু কোনো সম্পর্ক তখনই দৃঢ় হবে যখন আপনাদের অগ্রাধিকার একই বিষয়ে হবে, সম্পর্কে থিতু হওয়া থেকে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনাদের মত একই হবে।

 ৪. যোগাযোগ
‘সম্পর্ক’ এমন যেখানে দু’জন ব্যাক্তি পরস্পরের সাথে কথা বলবে। খাবারের মেন্যু বা মুভি নিয়ে কথা নয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কী ভালো লাগে, কী খারাপ লাগে এসব বিষয়ে আলোচনা করবে। যেই জুটি কথা বলে, সেই জুটিই একসাথে থাকে। কারণ কোনো সমস্যা বড় হওয়ার আগেই তারা সেই সমস্যার সমাধান করে ফেলে। সম্পর্কে সহমর্মিতা আর সংবেদনশীলতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যে সব জুটি পরস্পরের প্রতি সহমর্মী, তাঁদের জীবনও অনেক সুখের হয়।

https://lifestylecampus24.com/

৫. মূল্যবোধ
যে কোনও সম্পর্কে ক্ষেত্রেই কিছু মূল্যবোধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সততা আর পারস্পরিক বিশ্বাস সম্পর্ককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। একটা প্রেমের সম্পর্ক থেকে আপনারা কী চান, সেটা দু’জনের কাছেই স্পষ্ট তো? এমন নয় তো, একজন একটা স্থায়ী সম্পর্ক চান, অপরজন শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ছাড়া কিছুই দিতে রাজি নন? মনে রাখতে হবে, ভালোবাসা বা সম্পর্ক  শুধু শারীরিকই নয়, মানসিকও। যে কোনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গেলে দুটিরই ভূমিকা অনস্বীকার্য। হাতে হাত রাখা, ছোট্ট মেসেজ, এ সবই কিন্তু ভীষণ জরুরি! পরস্পরের চিন্তাভাবনা, আদর্শ, বিশ্বাসের ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রয়োজন। কেবলমাত্র শারিরীক চাহিদা পূরণ করাই সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হতে পারেনা। তেমন হলে কিন্তু ভবিষ্যতে সমস্যা এড়ানো যাবে না! সম্পর্কটা কোনদিকে গড়াতে চলেছে, তা প্রথম থেকেই দু’জনের কাছে স্পষ্ট থাকা দরকার! সঙ্গীর কাজকর্ম, আচরণের প্রতি যদি আপনার বিশ্বাস না থাকে, তা হলে কী করে একসঙ্গে থাকবেন? মাঝেমধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হতে পারে, হিংসে হতে পারে, কিন্তু মনে রাখবেন এটাই যেন নিয়মে পরিণত না হয়! সুখী সম্পর্কের জন্য সঙ্গীর উপর আস্থা রাখুন।

৬. ভুল স্বীকার
ভুল কে করে? এ কেমন প্রশ্ন, তাই না? সহজ উত্তর। মানুষই ভুল করে। ভুল করা এক বিষয় আর ভুল স্বীকার করে শুধরানোর চেষ্টা করা ভিন্ন এক বিষয়। তবে অবশ্যই যেকোন ভুলের একটা সীমা থাকে। ছোটখাটো ব্যাপারে মেজাজ গরম করা হয়ত ক্ষমা করা যায় কিন্তু শারীরিক আঘাত হয়ত আপনার ক্ষমা করা উচিত হবে না। এই ধরনের ছোটখাটো দুর্ঘটনাগুলো সম্পর্কে ফাটল আনতে পারে খুব সহজেই। তাই বারবার ভুল করা যেমন চলবে না, তেমনি ভুল করে স্বীকার না করা বা আত্ম অহংকার করাও বোকামী।

৭. ‘সেই ভুল’
যে মানুষটির সাথে আপনার সম্পর্ক যে মানুষটিকে আপনি ভালোবাসেন সেই মানুষটির সাথে ‘সেই ভুল’ করবেন না। কী ‘সেই ভুল’? সেসকল ভুল, যা ক্ষমা করা কঠিন কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষমার অযোগ্য। শারীরিকভাবে আঘাত করা, প্রতারণা করা, পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়া ইত্যাদি সেসব ভুলের মধ্যে ধরে নেয়া যায়, যা থেকে মানুষ সহজে বের হয়ে আসতে পারে না। এ ধরণের ভুলে ভরা সম্পর্কে কেউই থাকতে চায় না। যদি দুইজনই কোন সম্পর্ককে স্থায়ী করতে ইচ্ছুক হোন, তাহলে কখনোই কেউ এ ধরনের ভুল করবেন না।

https://lifestylecampus24.com/

৮. নিয়ন্ত্রণ
অনেক সম্পর্ক আছে যা তৃতীয় ব্যাক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং তার ফলাফল কখনোই ভালো হয় না। কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী আপনার ভালো চাওয়া আর কেউ আপনার সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়ার মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। আপনার খারাপ লাগলেও এই কথাটি মা-বাবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নিজেদের সম্পর্ক রক্ষায় আমাদেরকে মা-বাবার  নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই গ্রহণ করতে সক্ষম এবং দুইজন ব্যক্তির সম্পর্ক তৃতীয় কারো দ্বারা বোঝা কখনোই সম্ভব না। সুদৃঢ় কোনো সম্পর্কেও ভাঙন ধরাতে সক্ষম তৃতীয় কোন নিয়ন্ত্রণকারী ব্যাক্তি, হোক সে শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা বন্ধু বা স্বয়ং মা-বাবা।

৯. ভাঙন
সময়টা অনেক আপডেট, তাইনা? আর এই সময়ে কোনো কিছু ভেঙে গেলে আমরা কী করি? তা ফেলে দিয়ে নতুন কিনে নেই। জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস যথার্থ হলেও মানুষের ক্ষেত্রে কী তা কাম্য? মোটেই না, কোনভাবেই না।  ছোট্ এই জীবনটা সমুদ্র স্রোতের মতো, তাতে জোয়ার ভাটা থাকবেই। কখনো সময় ভালো যাবে আর কখনো বা খারাপ। খারাপ সময়ে হাল না ছেড়ে সমস্যা নির্ধারণ করে তা সংশোধনের চেষ্টা করুন। ভাঙা ফোনটা হয়ত ছুঁড়ে ফেলা যায় কিন্তু ভালোবাসার মানুষটিকে?

ইদানিং লক্ষ্য করবেন, আপনি-আমি যাদেরকে সেলিব্রেটি মনে করছি তাদের মাঝে ভাঙ্গা-গড়ার খেলা অবিরত চলতে থাকে। আজ অমুক তো কাল অমুক। ভালো লেগেছিল এখন লাগেনা কিংবা সহজ ভাষায় তারা আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তারা একে-অপরকে খুব শ্রদ্ধা করেন কিন্তু ‘সম্পর্ক’ বজায় রাখা অসম্ভব। আর আমরাও তাতে ব্যথিত হই।

https://lifestylecampus24.com/

যারা এ প্রকারের সেলিব্রেটিদের ‘সম্পর্কের’ ইতি টানাকে খুব সহজে নেন তারা ভুল করেন। কারণ, সম্পর্ক এতো ঠুনকো হতে পারেনা যে, যখন-তখন যাকে-তাকে ভালো লাগবে, সম্পর্ক তৈরি হবে আবার তা ছুঁড়ে ফেলে দেবে। সম্পর্ক হোক অনন্য। যদিও মানব মন খুব বিচিত্র। বিচিত্রভাবে তারা একে অন্যের কাছে আসে, একে অন্যকে ভালোবাসে ও চিরকাল ঠিক সেই ভালোবাসা নিয়েই জীবন কাটিয়ে দেয়।

আমার বিশ্বাস আপনিও প্রিয় মানুষটির সাথেই হাতে হাত রেখে পুরো জীবনটা উপভোগ করার পক্ষ্যে। ভালো থাকুক আপনার সম্পর্ক, ভালো থাকুন আপনি ও আপনার প্রিয় মানুষটি। শুভ কামনা।

Comments

comments

error: Content is protected !!